নিহতের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে মেট্রো রেলকে আইনি নোটিশ
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, ‘গত ২৬-১০-২০২০ ইং তারিখে দেশের বিভিন্ন সংবাদ বা গণমাধ্যম হতে জেনে নিশ্চিত হই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের এমআরটি লাইন-৬ ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন পিয়ার নং ৪৩৩ হতে ২ (দুই)টি বিয়ারিং প্যাড পড়ে যায়, উহার মধ্যে একটি বিয়ারিং প্যাড।’
ওই আইনি নোটিশে বলা হয়, ‘পথচারী আবুল কালামের মাথায় পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত আবুল কালাম আজাদেরর বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায়। তিনি তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী ও দুইটি শিশুসন্তান রয়েছে। আবুল কালাম আজাদের অর্থায়নে তার ছোট ভাই পড়াশোনা করেন।
মেট্রে রেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা জানিয়ে এতে বলা হয়, মেট্রো রেল ব্যবস্থাপনার চরম গাফিলতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে আবুল কালাম নিহত হন, ফলে আবুল কালাম আজাদের নিহত হওয়ার দায় মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ তাদের স্থাপনাসমূহ এবং সরঞ্জামাদি দেখভাল করেনি এবং কোথায় কখন কী ধরনের ত্রুটি আছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ না করে ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মেট্রো রেল পরিচালনা করে আসছে, যা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা অবমাননাকর উল্লেখ করে এই আইনি নোটিশে বলা হয়, আপনাদের অধীন পরিচালিত মেট্রো রেল দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলা করছেন এবং ত্রুটিযুক্ত রেখে ও জননিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, যার ফলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। গত ২৭-১০-২০২৫ ইং তারিখ বিভিন্ন জাতীয় সংবাদ বা গণমাধ্যমে জানলাম আবুল কালাম আজাদের নিহত হওয়ার জন্য মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ পাঁচ লাখ টাকা সরকরি সহায়তা দেবে এবং তার পরিবারের একজনকে মেট্রো রেলে চাকরি দেবে, যা খুবই সামান্য, বাস্তবতাবিবর্জিত এবং স্পষ্টত অবমাননাকর।
দশ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, আবুল কালাম আজাদের নিহত হওয়ার জন্য আপনি ১ ও ২ নং নোটিশ-গ্রহীতা ক্ষতিপূরণ ও তার পরিবারের জীবনযাপন করার জন্য আর্থিক সহায়তাস্বরূপ ১০ কোটি টাকা নিহত আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দেবেন এবং তার পরিবারের একজন সদস্যকে মেট্রো রেলে স্থায়ী চাকরি দেবেন। অন্যথায় আপনাদেন বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক নজির স্থাপন করবে।
আইনজীবী এনামুল নবীন মঙ্গলবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি আইনি নোটিশ এরই মধ্যে পাঠিয়েছি। আমি মনে করি, আবুল কালামের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।